পরিবারতন্ত্র নয়, সমান সুযোগের বাংলাদেশ চায় জামায়াত

বাংলাদেশ থেকে পরিবারতন্ত্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চিরতরে মুছে ফেলতে চান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়—যেখানে একজন রিকশাচালকও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুব সমাজের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে জামায়াতে ইসলামী। তার ভাষায়, যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসবে, তাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’—আর দ্বিতীয় ভোটটি হবে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। তিনি বলেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাখ্যান করবে।

নারীকর্মীদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সারা দেশে জামায়াতের নারী কর্মীরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, “নারীদের বেইজ্জতি আমরা সহ্য করবো না।”

বেকারভাতা নিয়ে বিএনপির প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বসে বসে বেকারভাতা খাব না। আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো।” তিনি আরও বলেন, “জামায়াতের বিজয় নয়, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।” ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পেছনে নয়—সামনের দিকে দৌড়াতে হবে।

ফেনীর ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে জামায়াত আমির বলেন, ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বন্যার কারণে ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখের উৎস যে বাঁধ, তার স্থায়ী সমাধানে কাজ করা হবে। পাশাপাশি ফেনীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের চেষ্টাও করা হবে বলে জানান তিনি।

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফেনী নদী নিয়ে কথা বলার কারণেই আবরার ফাহাদকে জীবন দিতে হয়েছে। আধিপত্যবাদের দালালরা তাকে সহ্য করতে পারেনি।” তিনি আবরার ফাহাদকে শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য দোয়া করেন এবং সবাইকে তাকে স্মরণে রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে সকাল থেকেই দলে দলে জামায়াতের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। জনসভা শুরুর আগেই ফেনী সরকারি কলেজ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফেনী জেলা জামায়াত আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *