বাংলাদেশে কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি বিভাজন মানা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই দেশ শুধু মুসলমানদের নয়—হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাঁওতালসহ সব জনগোষ্ঠীর।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নওগাঁর এটিএম মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, তার কিছু পুরোনো বন্ধু তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তবে তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কোনো অপপ্রচার বা অপচর্চার জবাব দেবেন না বলেও জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে যাতে কোনো জালিম নারী জাতির দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়।
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ওই আন্দোলনে তরুণ-তরুণী, কৃষক ও শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছিল। তারা বেকার ভাতা চায়নি, তারা কাজ চেয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।
ক্ষমতায় গেলে দেশে চলমান জমিদারি প্রথার রাজনীতি বিলুপ্ত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। বলেন, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বংশপরিচয়ের নয়, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের মূল্যায়ন করা হবে। রিকশাচালকের মেধাবী সন্তানও যেন একদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে—এমন সমাজ গড়ার কথা জানান তিনি।
এছাড়া জামায়াত আমির বলেন, তার দল ক্ষমতায় এলে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কাউকেই চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।