চলমান নির্বাচনী পরিবেশ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সারা দেশে উৎসাহ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কটু কথা, অভদ্র আচরণ বা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এসব কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “প্রস্তুতি পর্ব এখন পর্যন্ত খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট। এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভোটটাকে পারফেক্ট করা।”
প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টার মতে আগামী এক সপ্তাহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোট হবে উৎসবমুখর। নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন, মানুষ পরিবার নিয়ে ভোট উৎসবে অংশ নেবে। এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে এসব ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। বৈঠকের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা র্যান্ডমভাবে পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা বডি ক্যামেরা বহনকারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরাসরি ক্যামেরার কার্যকারিতা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
এ ছাড়া নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ পুরোপুরি চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপ ব্যবহার করবেন কেবল নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। কোনো ভোটকেন্দ্র বা এর আশপাশে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্য পৌঁছে যাবে। এতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রেস সচিব আরও জানান, দুর্গাপূজার সময় একই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে ৩২ হাজার মণ্ডপ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা সফল হওয়ায় এবার জাতীয় নির্বাচনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান প্রেস সচিব।