বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) ব্যবস্থার মাধ্যমে আনলিমিটেড ট্রিপল প্লে সেবার পাইলট কার্যক্রম চালু করেছে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠান।
সোমবার (৯ই ফেব্রুয়ারী) রাজধানীর রমনায় বিটিসিএলের প্রধান কার্যালয়ে পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ডিজিটাল জীবনকে সহজ, সাশ্রয়ী ও সমন্বিত করার লক্ষ্যেই বিটিসিএল এমভিএনও সিম এবং ট্রিপল প্লে সেবার পাইলট চালু করা হয়েছে। এটি একটি কনভার্জড ডিজিটাল উদ্যোগ, যেখানে ভয়েস, ডেটা ও ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্টকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বিটিসিএলের হাতে রয়েছে দেশের প্রায় সব ধরনের টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত ফাইবার নেটওয়ার্ক। এই শক্ত ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে বিটিসিএলকে নতুনভাবে রিব্র্যান্ড করে একটি আধুনিক ডিজিটাল সার্ভিস প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ট্রিপল প্লে সেবার মূল ধারণা ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, একটি সিম ও একটি সংযোগের মাধ্যমে ঘরে ও বাইরে একই ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ব্যবহারকারী ঘরে থাকলে ওয়াইফাই এবং বাইরে থাকলে মোবাইল ডেটার মাধ্যমে নির্বিঘ্নভাবে একই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। ইতোমধ্যে এমভিএনও সিম, ‘আলাপ’ অ্যাপ, ‘জীপন’ ব্রডব্যান্ড এবং ওটিটি কনটেন্টের সমন্বয়ে পাইলট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পুরো সিস্টেমটি বিটিসিএলের নিজস্ব প্রকৌশলীরা তৈরি করেছেন বলেও জানান তিনি।
এমভিএনও ও ট্রিপল প্লে সেবা নিয়ে করা গ্রাহক জরিপের তথ্য তুলে ধরে বিশেষ সহকারী বলেন, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ও ব্রডব্যান্ডের যৌথ প্যাকেজকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, সেবার মান উন্নত হবে এবং ওটিটি কনটেন্ট পাইরেসি কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রমনা ও গুলশান এলাকা থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করা হবে। ভবিষ্যতে ডিভাইস সংযুক্ত কোয়াড-প্লে সেবা চালু এবং দেশব্যাপী ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই সেবার আওতায় জিপিওএন (GPON) কানেকশন ও রাউটারসহ আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, আনলিমিটেড মোবাইল ভয়েস ও ডেটা এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’ যুক্ত করা হবে। সব মিলিয়ে আনলিমিটেড ভয়েস, ডেটা, ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্ট একীভূত করে কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বিটিসিএল।
বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও গ্রাহকবান্ধব টেলিযোগাযোগ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে। এতে বিটিসিএলের বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরীসহ বিটিসিএল ও টেলিটকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বিটিসিএলের এমভিএনও সেবা চালুর মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো, যা স্মার্ট, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ডিজিটালি সংযুক্ত বাংলাদেশের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।