মরক্কোর রাজধানী রাবাতে বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে মরক্কোর রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব আমাজিঘ কালচার এবং ইউনেসকোর মাগরেব আঞ্চলিক দপ্তর। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠানটি হয় রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব আমাজিঘে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। তবে এ বছর পবিত্র রমজান মাসের কারণে তারিখটি এগিয়ে এনে আগেই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা, রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব আমাজিঘ কালচারের রেক্টর আহমেদ বুকুস এবং ইউনেসকোর মাগরেব আঞ্চলিক দপ্তরের পরিচালক শরাফ আহমিমেদ। এছাড়া ইউনেসকোর ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহার একটি রেকর্ডকৃত বক্তব্যও অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (আইসেস্কো)-এর মহাপরিচালক। রাবাতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ক্রোয়েশিয়া, গিনি-বিসাউ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, কাজাখস্তান, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, মালয়েশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, ফিলিস্তিন, পেরু, থাইল্যান্ড ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতরা।
মরক্কোর পররাষ্ট্র, আফ্রিকান সহযোগিতা ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম, মধ্য, পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়ন বিভাগের প্রতিনিধি নেজহা রিকিও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এ ছাড়া স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাঙ্গনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিল ন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব ওএসিস অ্যান্ড আরগান ট্রি এরিয়াস, ডিপ্লোম্যাটিক ফাউন্ডেশন এবং মরক্কোর ন্যাশনাল কমিশন ফর এডুকেশন, সায়েন্সেস অ্যান্ড কালচার।
অনুষ্ঠানে নানা দেশের শিল্পীরা বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। অংশ নেয় মরক্কো, বাংলাদেশ, আজারবাইজান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, স্পেন, থাইল্যান্ড, ইউক্রেন ও ইয়েমেন। নানা ভাষা ও সংস্কৃতির মিলনে আয়োজনটি হয়ে ওঠে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মিলনমেলা।
এই আয়োজনের মাধ্যমে মরক্কোয় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। বিশেষ করে বহু-সংস্কৃতি ও বহু-ভাষার সুরক্ষা ও সংরক্ষণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে।