যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ভারতের মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বাণী পাঠ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মুম্বাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার ফারহানা আহমেদ চৌধুরী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। পরে অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ সংগীতের সুরে অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়। বাণীতে ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় উপ-হাইকমিশনার ফারহানা আহমেদ চৌধুরী মহান ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন। এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীনতার পথ সুগম হয়।
বক্তারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের আত্মত্যাগ আজ বিশ্বব্যাপী ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার প্রেরণা হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, প্রবাসী বাংলাদেশি, উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিদেশের মাটিতে এ আয়োজন ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেছে।