ব্যবসা-বাণিজ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৃজনশীল কৌশল নেবে সরকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার একদিকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছে, অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদি প্রত্যাশা পূরণেও কাজ করছে। তার মতে, স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত বাজার পরিস্থিতি ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (২৬শে ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে অংশ নেয় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে বাজারকে স্বাভাবিক রাখা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

তিনি অভিযোগ করেন, গত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে কিছু ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটভিত্তিক প্রভাব বাজার ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। দ্রব্যমূল্য যাতে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদারের কথাও বলেন মন্ত্রী।

ব্যবসা নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিবহন খাতেও শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। সারাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বড় শহর বা বিভাগীয় শহর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে ডিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট তাসকীন আহমেদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় ডিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব এইচ চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ সালেম সোলায়মান এবং সচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের এই ঘোষণাগুলো ব্যবসায়ী মহলে সতর্ক আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতা আগামী মাসগুলোতে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *