দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও ফুটওয়্যার রপ্তানি বাড়াতে সিউলে একটি ব্যবসায়িক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজধানী সিউল-এর একটি হোটেলে আয়োজিত এ সেমিনারের শিরোনাম ছিল—“Bangladesh: Your New High-Value Partner for Quality Leather Goods & Footwear”। আয়োজন করে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
সেমিনারে অংশ নেয় বাংলাদেশের বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি -এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। কোরিয়ার শীর্ষ ৩০টি আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও বাণিজ্যের পরিসর আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। চামড়াজাত পণ্য ও ফুটওয়্যার বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরিয়ার বাজারে প্রবেশে এই সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিবেশ আরও অনুকূল হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কোরিয়া আমদানিকারক সমিতির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান কোন কি-চ্যাং। তিনি বলেন, কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উন্নতমানের ফ্যাশনপণ্য, বিশেষ করে চামড়াজাত সামগ্রী ও ফুটওয়্যারের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ এই চাহিদা পূরণে সক্ষম।
এছাড়া ইয়ংওন কর্পোরেশন-এর প্রেসিডেন্ট মিনসুক লি বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ ও কোরিয়ান ইপিজেডে ব্যবসায়িক সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
টেকনিক্যাল সেশনে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কমপ্লায়েন্স, উদ্ভাবন ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তি ও ভৌগোলিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য বড় সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করেন।
দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মোঃ নাজমুল হক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বর্তমান চিত্র, এলডিসি উত্তরণ এবং সম্ভাব্য কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশীপ এগ্রিমেন্ট (CEPA) নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকারি প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা চামড়া খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করেছে।
গাজীপুরে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ সু-সিটি’ শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। ফাইভ-আর ফুটওয়্যার লিমিটেডের ডিরেক্টর রিয়ান নাসির খান এ বিষয়ে প্রেজেন্টেশন দেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের চারটি প্রতিষ্ঠান—সিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, বিএলজে বাংলাদেশ কর্পোরেশন লিমিটেড, ক্রাফ্টসম্যান ফুটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাকসেসোরিজ লিমিটেড এবং ফরচুন সুজ লিমিটেড—তাদের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও রপ্তানি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও বি২বি (ব্যবসা-টু-ব্যবসা) ম্যাচমেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। কোরিয়ান ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের চামড়া ও ফুটওয়্যার খাতে আগ্রহ দেখান এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
২৩ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের এ সফরে LFMEAB-এর সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন গতি আনবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক হবে।