একসময় শুটিং সেটের উজ্জ্বল আলোয় যার দিন কাটত, লাইট-ক্যামেরা আর অ্যাকশনের ব্যস্ততায় যিনি ছিলেন ক্লান্তিহীন, আজ তাঁর চারপাশ ঘোর অমানিশায় ঢাকা। কিন্তু নিজের চোখের আলো হারিয়েও দমে যাননি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয় মুখ জাকির হোসেন। অন্ধকারকে সঙ্গী করেই তিনি এখন ১০০টি অসহায় পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন।
টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রাণপুরুষ জাকির হোসেন। নাটক আর মঞ্চ মানেই ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। স্বপ্নপূরণের নেশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকা শহরে। সেখানে মিডিয়া জগতে প্রডিউসার হিসেবে দ্রুতই নির্মাতাদের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যময় দুনিয়ায় যখন তাঁর সাফল্যের জয়জয়কার, ঠিক তখনই নিয়তি হানা দেয় এক নিদারুণ আঘাত নিয়ে।
হঠাৎ স্ট্রোক এবং পরবর্তী সময়ে চোখের রক্তনালী শুকিয়ে যাওয়ায় চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারান জাকির হোসেন। যে মানুষটি অন্যদের ফ্রেমে আলো ঠিক করে দিতেন, তাঁর নিজের পৃথিবীর সব আলো একদিন হঠাৎ করেই নিভে গেল।
দৃষ্টি হারানোর পর সাধারণ মানুষ যেখানে হতাশায় ভেঙে পড়েন, জাকির হোসেন সেখানে বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। নিজের ব্যক্তিগত অন্ধকার দিয়ে তিনি অনুভব করলেন সমাজের অবহেলিত, পঙ্গু এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের গভীর কষ্ট।
সেই মানবিক তাড়না থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন ‘বাংলাদেশ দুস্থ পূর্ণবাসন সংস্থা’। নিজের শারীরিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি এখন প্রায় ১০০টি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
জাকির হোসেনের এই মানবিক উদ্যোগ এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। মঞ্চ নাটক রচনা, নির্দেশনা এবং অভিনয় থেকে নিজের সামান্য আয় আর মানুষের সহযোগিতায় এতদিন চললেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
“আমি চোখে দেখি না সত্য, কিন্তু ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট আমার কলিজায় লাগে। আমি একা হয়তো বেশিদূর যেতে পারব না, কিন্তু সমাজের সামর্থ্যবান মানুষগুলো যদি পাশে দাঁড়ান, তবে এই অসহায় পরিবারগুলো অন্তত না খেয়ে মরবে না।” — জাকির হোসেন
জাকির হোসেন কোনো করুণা বা দয়া চান না, তিনি চান তাঁর এই মানবিক কাজে আমাদের সকলের অংশীদারিত্ব। আপনার সামান্য দান হয়তো কোনো একটি পরিবারের এক মাসের নিশ্চিন্ত আহারের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
দৃষ্টিহীন এই মানুষটি যখন অন্ধকারের বুক চিরে অন্যদের আলোর পথ দেখাচ্ছেন, তখন দুই চোখ সুস্থ থেকেও আমরা কি হাত বাড়িয়ে দিতে পারি না? জাকির হোসেনের এই ‘সেবা-শ্রম’ যেন থমকে না যায়, সেই আহ্বান এখন সবার কাছে।
আসুন, জাকির হোসেনের হাত দুটোকে শক্তিশালী করি। তাঁর চোখের অন্ধকারের বিপরীতে আমাদের ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেই।
সহযোগিতা পাঠাতে বা বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন :
জাকির হোসেন
01712 867386