বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির বড় একটি অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাতে অনেক শ্রমিক আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে থাকলেও দেশের সামগ্রিক শ্রমবাজার এখনো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক হয়নি।
তিনি বলেন, দেশকে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতির পথে নিতে হলে ধীরে ধীরে সব খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শ্রম-মানদণ্ড ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধাও পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
ঢাকার সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর ৯৪তম এবং আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (আরএমজি টিটিসি)-এর ২২তম সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন । সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মোঃ নূরুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার নতুন সহায়তা কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির প্রস্তুতি দ্রুত এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিগগিরই এটি চালু হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি পরিবারে একটি করে কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সহায়তা মিলবে। সরাসরি রেশন ব্যবস্থা না থাকলেও এই কার্ডের মাধ্যমে একই ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা যাবে বলে সরকারের আশা। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সভায় আরএমজি খাতে শ্রম অসন্তোষ, সামগ্রিক শ্রম পরিস্থিতি এবং আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ ও ছুটি নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শ্রম খাতে নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমাধানে নিয়মিত সংলাপ জরুরি। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকগুলো নিয়মিত হলে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাত প্রধান চালিকাশক্তি। তবে অর্থনীতির বড় অংশ এখনো ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক সেবাখাতনির্ভর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমশক্তিকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে পারলে কর আদায়, সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রমিক অধিকার—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।