সমাজের অপরাধ দমনে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে ‘পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে দলীয় নেতা–কর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গঠিত এ সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিময় দেশ গঠনে কাজ করছে।
একই দিনে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় আয়োজিত আরেকটি ইফতার মাহফিলে প্রতিমন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। যার যার ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো ধর্মের ওপর আঘাত না করে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
হাটহাজারীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর হেলাল বলেন, চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনের বিভিন্ন সড়ক মেরামতসহ উন্নয়নমূলক কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লাইভ আপডেট’ আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। জনগণের অভিযোগ সরাসরি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ–এর সভাপতিত্বে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
অন্যদিকে, হাটহাজারী উপজেলার অনুষ্ঠানে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দও অংশ নেন। উপজেলা হেফাজতের সভাপতি আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে সংগঠনের নায়েবে আমির মুফতি জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন আলেম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।