জ্ঞানচর্চা ও বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, একটি জাতিকে দুর্বল বা ধ্বংস করতে চাইলে তাদের লাইব্রেরি ও বই ধ্বংস করাই যথেষ্ট। তাই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অমর একুশে বইমেলা-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী বাংলা ভাষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ’র সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকেও স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাদের ত্যাগ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য তার বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকার নতুন কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক লাইব্রেরি স্থাপন এবং জেলা পর্যায়ের আদলে উপজেলা পর্যায়েও শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক মডেল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ চলছে।
নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এবারের বইমেলা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আযম এবং সচিব সেলিম রেজা।
বক্তারা মেলায় অংশ নেওয়া লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের ধন্যবাদ জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এবং বেশি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বইমেলা আয়োজন করা যাবে।