ঈদযাত্রায় গাবতলীতে চাপ, সময়সূচি ঠিক রাখতে হিমশিম

ঈদ সামনে। শহর ফাঁকা হতে শুরু করেছে। মানুষ ফিরছে বাড়ি। সেই চেনা দৃশ্য—ব্যাগ, বাচ্চা, ক্লান্ত চোখ, তবু  এক ধরনের তাড়াহুড়া।

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে প্রতি বছরের মতোই এবারও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে এবার চাপ যেন একটু বেশি। সকাল থেকে রাত—একটানা ভিড়।

ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল আরিফ বিপু বলেন, যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে তারা চেষ্টা করছেন। বাস যেন নির্ধারিত সময়েই ছাড়ে—এটাই লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় কথা শোনে না।

তিনি বলেন, সড়কের যানজট বড় সমস্যা। বিশেষ করে সাভার ও আমিনবাজার এলাকায় গাড়ির গতি কমে যায়। বাস থামে, আবার চলে। সময়সূচি তখন কাগজেই থাকে। মাঠে থাকে না।

গাবতলীতে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কেউ টিকিট পেয়েছেন, কিন্তু বাস আসেনি। কেউ বাস পেয়েছেন, কিন্তু ছাড়তে দেরি। তবু কেউ ফিরছেন না। কারণ বাড়ি যেতে হবে—এটাই বড় কথা।

ভাড়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা আছে। প্রতি ঈদেই এই অভিযোগ ওঠে। বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কি না—যাত্রীদের কৌতূহল, কখনও ক্ষোভ।

এ বিষয়ে শামসুল আরিফ বিপু বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কোথাও নেওয়া হয়, সেটি অনিয়ম। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাপ সামলাতে অতিরিক্ত বাস নামানো হয়েছে। তবু যানজট বড় বাধা। সড়ক ফাঁকা না হলে সময় ঠিক রাখা কঠিন।

ঈদযাত্রা তাই শুধু ভ্রমণ নয়। এটি এক ধরনের সহনশীলতার পরীক্ষা। অপেক্ষা আছে, ভিড় আছে, অস্থিরতা আছে। তারপরও মানুষ যাচ্ছে। কারণ বাড়ি মানে শুধু জায়গা নয়—একটা টান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *