নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় রিতা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পায়ে শিকল বাঁধা ছিল—এই বিষয়টি ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রিতা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলামের স্ত্রী।
লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রিতা বেগমকে বেশ কিছুদিন ধরে একটি আলাদা ঘরে রাখা হচ্ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তার মানসিক সমস্যা ছিল। এ কারণে তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
তবে এলাকাবাসীর একাংশ এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, রিতা বেগম স্বাভাবিক ছিলেন। তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মানসিক রোগী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।
ঘটনার দিন ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলন্ত দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ বলছে, এই মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ওসি আব্দুর রহমান বলেন, “রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার—এটি স্বাভাবিক মৃত্যুর চেয়ে বেশি কিছু ইঙ্গিত করে কিনা, সেই প্রশ্ন এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।
উজ্জ্বল রায়
উপজেলা প্রতিনিধি লোহাগড়া