বাংলালিংক ও ফ্লোসোলারের অংশীদারিত্বে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক বড় উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ফ্লোসোলার সল্যুশনস লিমিটেডের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। সম্প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বিষয়ে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির আওতায় ফ্লোসোলার কেন্দ্রটির উন্নয়ন, অর্থায়ন ও পরিচালনা করবে, আর বাংলালিংক দীর্ঘমেয়াদি ‘কর্পোরেট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিপিপিএ) এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলালিংকের টেলিকম নেটওয়ার্কে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

বাংলালিংকের লক্ষ্য দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি বিটিএস সাইট, ডেটা সেন্টার ও স্পেশাল পারচেজ ভেহিকল (এসপিভি) সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা। প্রতিষ্ঠানটি আগামী কয়েক বছরে মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৬০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎসে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।

প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৭৬ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

বাংলালিংকের চিফ টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফরমেশন অফিসার হুসেইন টার্কার বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমাদের এই পদক্ষেপ। ফ্লোসোলারের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য শক্তি খাতকে আরও এগিয়ে নেবে এবং বড় আকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনুপ্রেরণা দেবে।”

ফ্লোসোলার সল্যুশনস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান বলেন, “বাংলালিংকের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব টেকসই জ্বালানি ব্যবহারে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জাতীয় লক্ষ্যপূরণে বাস্তব অবদান রাখতে চাই।”

বাংলালিংকের এই উদ্যোগ দেশে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *