ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যখন অনেক সরকারি সেবা সীমিত থাকে, তখন নড়াইলের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু রেখেছিল পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা এই কেন্দ্রে সেবা পেয়ে খুশি হয়েছেন সেবাগ্রহীতারা, বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েরা।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির মধ্যেই সেখানে চারজন গর্ভবতী মায়ের স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকজন নারী প্রসবকালীন জরুরি সেবা পেয়েছেন।
এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয় কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. নুসরাত জাহানের তত্ত্বাবধানে। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকারা মাঠপর্যায়ে ও কেন্দ্রে সমন্বয় করে সেবাগুলো নিশ্চিত করেন।
কেবল প্রসবসেবা নয়, ঈদের ছুটির প্রতিদিনই গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা এবং নবজাতকদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পদ্ধতিও সরবরাহ করা হয়েছে।
সরাসরি কেন্দ্রে এসে সেবা নেওয়ার পাশাপাশি, টেলিফোনের মাধ্যমেও কয়েকজন গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—যা জরুরি সময়ে সেবার পরিধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নড়াইল সদর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের স্বপ্না রানী বিশ্বাস জানান, নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। তার ভাষায়, “ঈদের সময়ও এমন সেবা পাওয়া আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি।”
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটির দিনেও এই ধরনের নিরবচ্ছিন্ন মাতৃসেবা চালু রাখা গেলে গ্রামীণ পর্যায়ে মা ও নবজাতকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
উজ্জ্বল রায়
লোহাগড়া প্রতিনিধি, নড়াইল ।