বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য জোরদারে আলোচনা, এফটিএ প্রস্তাব ও আরসিইপিতে সমর্থনের ইঙ্গিত

ক্যামেরুনের ইয়াউন্দে-তে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা-এর ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14)-এর সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) প্যালেস দ্যা কংগ্রেস-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নিউজিল্যান্ডের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট মন্ত্রী টড ম্যাকক্লে অংশ নেন। দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নবনির্বাচিত সরকার বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায় এবং এ লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে।

তিনি আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট RCEP-এ যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন এবং এ ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেন। তার মতে, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এ জোটে অন্তর্ভুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাজার বহুমুখীকরণের কৌশলের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) স্বাক্ষর করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী টড ম্যাকক্লে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আরসিইপি জোটে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে এবং এ বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, এমন একটি চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিতে সহায়ক হবে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে তিনি চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে উভয় দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়াতে এবং নতুন সুযোগ খুঁজে বের করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *