দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার মধ্যে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তিনজন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে দক্ষিণ লেবাননের ইত্ত তাইবে এলাকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউনিফিল) ঘাঁটিতে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে একজন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত হন। একই ঘটনায় আরেকজন গুরুতর আহত হন ।
এরপর সোমবার (৩০ মার্চ) বানি হাইয়ান এলাকায় ইউনিফিলের একটি লজিস্টিকস কনভয়ে হামলায় বিস্ফোরণ ঘটলে দুইজন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং দুইজন আহত হন। এই ঘটনায় তাদের গাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় ।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী অভিযান প্রধান জঁ-পিয়ের লাক্রোয়া নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। শান্তিরক্ষীরা কখনওই লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না” ।
লাক্রোয়া আরও জানান, গত কয়েকদিনে শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে, যা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সামরিক সমাধান নেই, রাজনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ” ।
এই হতাহতের ঘটনা ঘটছে এমন একটি সময়ে, যখন গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা চালায় ।
এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ ।
ইউনিফিল মুখপাত্র ক্যান্ডিস আর্ডিয়েল জানান, তাদের নাকুরা সদর দপ্তরের কাছে কয়েকদিন আগে তীব্র যুদ্ধ হয়েছে এবং সেখানে গুলি, শার্পনেল এবং রকেট আঘাত হেনেছে। তিনি একে “খুবই বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি” বলে অভিহিত করেন ।
প্রায় ৫০টি দেশের ৮ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী ইউনিফিলে কর্মরত আছেন। এই বাহিনী ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে গঠিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ শান্তিরক্ষী ও লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আগেই সতর্ক করেছিলেন যে এই সংকট “বিশ্বের সবচেয়ে অস্থিতিশীল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত করতে পারে” ।
ইউনিফিল জানিয়েছে, তারা এই ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে দায়ী পক্ষকে চিহ্নিত করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবে ।
সংবাদ সূত্র: রয়টার্স, জাতিসংঘ নিউজ, বিবিসি নিউজ, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস