ইসরায়েলের ‘ফিলিস্তিনি বন্দি মৃত্যুদণ্ড’ আইনে তীব্র নিন্দা ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্সির

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট কর্তৃক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া একটি নতুন আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্সি। এই আইনকে তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের এক স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।

সোমবার (৩০শে মার্চ) জারি করা এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্সি বলেছে, নেসেটে পাস হওয়া এই আইনটি চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন। বিশেষ করে এটি ব্যক্তির সুরক্ষা এবং ন্যায্য বিচারের যে নিশ্চয়তা দেয় তাকে চ্যালেঞ্জ করছে। একইসঙ্গে এটি ‘আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ’-এরও লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, এই আইনটি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে একটি ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলি দমন নীতির বৃহত্তর আগ্রাসনেরই অংশ।

ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্সি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এমন কুৎসিত আইন ও পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনি জনগণের মনোবল ভাঙতে বা তাদের দৃঢ়তাকে ক্ষুণ্ন করতে পারবে না। ইসরায়েলের এই আইন তাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম কিংবা পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বৈধ অধিকার থেকে তাদের এক পা-ও পিছিয়ে দিতে পারবে না।

এদিকে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন দেওয়া ওই আইন বাতিলের জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্সি। তারা উল্লেখ করে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের নীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের আইনি ও মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্সি বলছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে এই লঙ্ঘনগুলো বন্ধ করতে, ইসরায়েলকে জবাবদিহ করতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত চলমান অপরাধের জন্য তাদের বিরুদ্ধে সাংকশন আরোপ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ওপর নির্যাতন, একাকী কারাদণ্ড এবং পদ্ধতিগতভাবে হত্যার মতো অপরাধগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এমন বর্ণবাদী আইনের বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, এই ধরনের আইন অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার যেকোনো সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

শেষে বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ইস্যুতে ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্সির অগ্রাধিকার অব্যাহত থাকবে। বন্দিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ কারীদের বিচারের সম্মুখীন করতে সব আন্তর্জাতিক ফোরামে তারা লড়াই চালিয়ে যাবে।

 

 

(এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্সির দেওয়া বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *