বাংলাদেশের ফুটবল নতুন দিশার খোঁজে: ট্রুসিয়ার কি হতে পারেন টার্নিং পয়েন্ট?

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা–এর অধ্যায় শেষ হয়েছে। এখন সামনে বড় প্রশ্ন—কে নেবেন দায়িত্ব, এবং কীভাবে বদলাবে দেশের ফুটবলের বর্তমান চিত্র।

দেশের ফুটবল দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমালোচনার মুখে। মাঠের পারফরম্যান্স যেমন হতাশাজনক, তেমনি মাঠের বাইরের ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নবিদ্ধ। খেলোয়াড় নির্বাচন, দল গঠন এবং ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ সংস্কৃতির অভিযোগ রয়েছে। এই বাস্তবতায় অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এবার প্রয়োজন কঠোর ও অভিজ্ঞ একজন কোচ।

এই প্রেক্ষাপটে সামনে আসছে ফরাসি কোচ ফিলিপ ট্রুসিয়ার–এর নাম। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি পরিচিত ‘হোয়াইট উইচ ডক্টর’ নামে। কঠোর শৃঙ্খলা ও কৌশলগত দক্ষতার জন্য এই খ্যাতি পেয়েছেন।

ট্রুসিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ–এ। তার অধীনে জাপান জাতীয় ফুটবল দল প্রথমবারের মতো নক-আউট পর্বে ওঠে। এই সাফল্য এশিয়ার ফুটবলে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।

শুধু জাপান নয়, ট্রুসিয়ার কোচিং করেছেন ভিয়েতনাম, কাতার, মরক্কো, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে। বিশেষ করে ভিয়েতনামের ফুটবল উন্নয়নে তার অবদান নিয়ে এখনও আলোচনা হয়। শৃঙ্খলাভিত্তিক দল গঠন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আলাদা।

ক্লাব পর্যায়েও তার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। তিনি কাজ করেছেন অলিম্পিক মার্শেই–এর মতো ইউরোপের বড় ক্লাবে। এছাড়া চীনের ঝেজিয়াং গ্রিনটাউন ও শেনজেন রুবি, তিউনিসিয়ার সিএস ফাক্সিয়েন এবং মরক্কোর এফএআর রাবাত ক্লাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রুসিয়ারের কোচিং দর্শনের একটি বড় দিক হলো—তিনি নাম নয়, পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেন। তার দলে জায়গা পেতে হলে কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। ড্রেসিংরুমে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ফলে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ কমে যায়।

বাংলাদেশের বর্তমান ফুটবলে যে ট্যাকটিক্যাল ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে ট্রুসিয়ারের মতো কোচ কার্যকর হতে পারেন বলে মত অনেকের। তিনি আধুনিক প্রেসিং ফুটবল এবং সংগঠিত রক্ষণভাগে বিশ্বাসী।

তবে বড় বাধা হতে পারে তার পারিশ্রমিক। আন্তর্জাতিক মানের কোচ হিসেবে তার চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তবুও অনেকে মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নিয়ে এগোলে তাকে আনার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এখন দৃষ্টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন–এর দিকে। নতুন কমিটির সামনে এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত। তারা কি আবারও স্বল্প পরিচিত কোচের পথে হাঁটবে, নাকি বড় প্রোফাইলের কারও ওপর আস্থা রাখবে—সেটিই দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের ফুটবল নতুন পথে হাঁটতে চাইলে, এই মুহূর্তে সাহসী সিদ্ধান্তই হতে পারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের শুরু।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *