আর্নোল্ড–আব্বাস জুটি: ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরল ইরাক


চার দশকের অপেক্ষার অবসান। আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে ইরাক জাতীয় ফুটবল দল। আর এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে এক অপ্রত্যাশিত জুটি—গ্রাহাম আর্নোল্ড এবং আলী আব্বাস।

আলী আব্বাস একসময় ইরাকের হয়ে ১২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকট তার জীবন বদলে দেয়। উন্নত জীবনের আশায় তিনি অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। পরে সেখানকার নাগরিকত্বও পান।

২০১২ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ লিগে খেলতে শুরু করেন। সিডনি এফসি-তে যোগ দেন। সেখানেই তার কোচ ছিলেন গ্রাহাম আর্নোল্ড। সেই সময় থেকেই দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে আস্থা ও বোঝাপড়া।

সময়ের ব্যবধানে প্রায় এক দশক পেরিয়ে যায়। ২০২৫ সালে নতুন এক সুযোগ আসে। ইরাক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আর্নোল্ডকে প্রধান কোচ হিসেবে নিতে আগ্রহ দেখায়। তবে শুরুতে আর্নোল্ড দ্বিধায় ছিলেন। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও পরিবেশ—সবকিছুই ছিল চ্যালেঞ্জ।

এই জায়গায় সামনে আসেন আলী আব্বাস। তিনি শুধু আর্নোল্ডকে দায়িত্ব নিতে উৎসাহ দেননি, নিজেও সক্রিয় ভূমিকা নেন। অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে দোভাষী হিসেবেও দলে যোগ দেন। তার কাজ ছিল কোচের বার্তা খেলোয়াড়দের কাছে পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া।

ইরাক দলের অনেক খেলোয়াড় ইংরেজি জানতেন না। ফলে যোগাযোগ ছিল বড় সমস্যা। আব্বাস সেই ব্যবধান কমিয়ে দেন। কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হয়।

এই সমন্বয় দ্রুতই মাঠে ফল দিতে শুরু করে। দল হয়ে ওঠে সংগঠিত। খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। কৌশল বাস্তবায়ন সহজ হয়।

শেষ পর্যন্ত আসে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ৪০ বছর পর আবারও ফিফা বিশ্বকাপ-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইরাক।

এটি শুধু একটি ক্রীড়া অর্জন নয়। এটি একটি প্রতীকী প্রত্যাবর্তন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এক দেশের নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর গল্প। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে আছেন এক কোচ এবং এক সাবেক খেলোয়াড়—যাদের বোঝাপড়াই বদলে দিয়েছে পুরো দলের ভাগ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *