গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জোনায়েদ সাকি। দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রবীণ কৃষক নেতা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু।
রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।
তিনি বলেন, সরকারে দায়িত্ব পালন ও দলীয় প্রধানের দায়িত্ব একসঙ্গে না রাখার নীতিগত অবস্থান থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সংগঠনকে আলাদা রাখার যে রাজনৈতিক দর্শন, সেটিই আমরা অনুসরণ করছি,” বলেন রুবেল। তিনি আরও জানান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ থেকেই এই নীতির অনুপ্রেরণা এসেছে।
জোনায়েদ সাকি সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি দল ছাড়ছেন না; বরং রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে সক্রিয় থাকবেন। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট বিভিন্ন গণসংগঠনের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়। দলটি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সম্পদ রক্ষার বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের জাতীয় সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয় এবং সেখানে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন সাকি।
দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু দীর্ঘদিন ধরে কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি অংশ নেন। দক্ষিণাঞ্চলে কৃষক-শ্রমিক সংগঠনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
তিনি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালে গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে একীভূত হলে তিনি এই দলে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পরবর্তী সম্মেলনগুলোতেও পুনর্নির্বাচিত হন।
দলের ভেতরে নেতৃত্বের এই পরিবর্তনকে একটি সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারে অংশ নেওয়ার পর দলীয় কাঠামো আলাদা রাখা গণসংহতি আন্দোলনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানান।