বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি—এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর খুঁজতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়গুলো নতুন করে পরিমাপ করা হচ্ছে।
৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই জরিপ চলবে ১২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত। কাজ চলছে রুমা উপজেলা ও থানচি উপজেলা অঞ্চলে। এই এলাকায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি উচ্চ পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।
জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সার্ভেয়ার জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুর-এ-আলম মোহাম্মদ যোবায়ের সারোয়ার। তার নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ দল সরাসরি মাঠে কাজ করছে। তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উপ-পরিচালক (জরিপ) দেবাশীষ সরকার।
এই জরিপে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক জিওডেটিক পদ্ধতি। সঙ্গে রয়েছে উন্নত গ্লোবাল ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম বা GNSS প্রযুক্তি। লক্ষ্য হলো, পাহাড়ের উচ্চতা নির্ধারণে সেন্টিমিটার পর্যায়ের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা।
জরিপ দলটি থানচি, রেমাক্রি, রুমা ও তিন্দুসহ দুর্গম এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা ডুয়াল ফ্রিকোয়েন্সি GNSS রিসিভার, RTK রিসিভার, টোটাল স্টেশন ও লেভেল মেশিন ব্যবহার করছে।
জরিপে একটি নতুন জিওড মডেলও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া এলিপসয়েড উচ্চতাকে গড় সমুদ্রতল (MSL) অনুযায়ী নির্ভুলভাবে রূপান্তর করা সম্ভব।
বাংলাদেশে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন তাজিংডং, আবার কেউ মনে করেন কেওক্রাডং সবচেয়ে উঁচু। সাম্প্রতিক গবেষণায় সাকা হাফং-এর উচ্চতা বেশি বলেও দাবি উঠেছে।
এই নতুন জরিপের মাধ্যমে সেই বিতর্কের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জরিপ শেষে সরকারিভাবে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম, অবস্থান এবং উচ্চতা ঘোষণা করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক উচ্চতা নির্ধারণ শুধু ভৌগোলিক তথ্য নয়, পর্যটন, গবেষণা ও জাতীয় মানচিত্র উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।