বকেয়া বেতনের দাবিতে তেজগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ

বকেয়া বেতনের দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁও লিঙ্ক রোডে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন নাসা মেইনল্যান্ড কারখানার প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ পোশাক শ্রমিক। মহাখালী ও নাবিস্কোর মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অবরোধের ফলে এলাকায় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। সেখানে তারা শ্রমিক প্রতিনিধি ও কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন।

আলোচনা শেষে শ্রমমন্ত্রী শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে এসেছেন। সমস্যার সমাধানে আগামীকাল সকাল ১১টায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সভা ডাকা হয়েছে। এতে শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ এবং বিজিএমইএ সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত থাকবেন।

মন্ত্রী আরও জানান, বিষয়টির সঙ্গে কিছু আইনি জটিলতা ও মামলা জড়িত রয়েছে। তাই এমন একটি সমাধান খোঁজা হচ্ছে যাতে শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত হয় এবং একই সঙ্গে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রমও চালু রাখা যায়।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এবারের ঈদুল ফিতরে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বড় ধরনের শ্রম অসন্তোষ দেখা যায়নি। জনদুর্ভোগ কমাতে শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।

এদিকে, নাসা মেইনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর সম্পদ জব্দ থাকায় কারখানা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তারা মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করতে পারবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি, শ্রমিকদের ‘আর্নড লিভ’ বা অর্জিত ছুটির টাকার জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শেষ পর্যন্ত শ্রমমন্ত্রীর আশ্বাস এবং পরদিনের বৈঠকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে সড়ক ছেড়ে দেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতে বকেয়া বেতন ও আইনি জটিলতা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। দ্রুত ও কার্যকর সমাধান না হলে এমন পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে, যা শ্রমিক ও নগর জীবনের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *