টেকসই নগর উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–নির্ভর আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট। ‘হংকং ইয়ুথ সায়েন্টিফিক ইনোভেশন’ নামের এই স্যাটেলাইটটি সম্প্রতি চীনের একটি বাণিজ্যিক রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে।
স্যাটেলাইটটি ‘স্মার্ট ড্রাগন-৩’ রকেট ব্যবহার করে সাতটি স্যাটেলাইটের একটি গুচ্ছের অংশ হিসেবে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের সময় ছিল বেইজিং সময় অনুযায়ী দুপুর ২টা ৩৭ মিনিট।
সাধারণত অধিকাংশ স্যাটেলাইট পৃথিবীতে পাঠানো সংকেতের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। কিন্তু এই নতুন স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এতে ব্যবহৃত হয়েছে একটি ‘লার্জ-স্কেল এআই মডেল’, যার মাধ্যমে এটি মহাকাশে থেকেই সরাসরি তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রিয়েল-টাইম ডেটা প্রসেসিং প্রযুক্তি দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে দ্রুত সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে উদ্ধারকাজ ও জরুরি সহায়তা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
স্যাটেলাইটটিতে একটি সাব-মিটার হাই-রেজোলিউশন অপটিক্যাল রিমোট সেন্সিং ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পৃথিবীর পৃষ্ঠের অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য এক মিটারেরও কম নির্ভুলতায় শনাক্ত করা যায়।
এই প্রযুক্তি শহর পরিকল্পনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্যাটেলাইটটি তৈরি করেছে Chinese University of Hong Kong এবং এআই স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কোম্পানি ADA Space যৌথভাবে। প্রকল্পটি তত্ত্বাবধান করেছে হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের ‘ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ফান্ড’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীরাও এই প্রকল্পে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। স্যাটেলাইটের প্রধান ডিজাইনার মা পেইফেং জানিয়েছেন, এটি হংকং ও গ্রেটার বে এরিয়ার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে হংকংয়ে একটি ডেটা অপারেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের জন্য তথ্যসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু স্মার্ট সিটি গড়তেই নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে বৈশ্বিক গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে চীন এআই-চালিত রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের স্যাটেলাইট বিশ্বজুড়ে নগর উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।