টাঙ্গাইলে নাগরিক অধিকারের দাবিতে অনশন, প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার

টাঙ্গাইলে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন দাবিতে গত ৮ এপ্রিল মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের পর গণঅনশন শুরু হয়। চার দিনব্যাপী এ অনশনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যালাইন প্রদান করেন।

কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে জেলার নদী-খাল-বিল, জলাশয়, ব্রিজ-কালভার্ট, ঐতিহ্যবাহী মসজিদ-মন্দির ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অবৈধ দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো—

১. টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নদী-খাল-বিলের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খনন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা।

২. জেলার সকল জলাশয় ও খাল পুনঃখনন এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

৩. পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ও সংস্কার।

৫. অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ বন্ধ করে নদী দূষণ রোধ।

৬. নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ।

৭. শহরের যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

৮. জনস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

শনিবার (১১ এপ্রিল) টাঙ্গাইল সদর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেন। তিনি কমিটির উত্থাপিত সকল দাবি নীতিগতভাবে মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং জানান, এসব দাবির বাস্তবায়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা দ্রুত পুরো জেলায় কার্যকর করা হবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী আন্দোলন সফল করতে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে তিনি নিজ হাতে পানি পান করিয়ে অনশনকারীদের অনশন ভঙ্গ করান।

প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে চার দিন ধরে চলা গণঅনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে অনশনকারীরা অবস্থান ত্যাগ করেন। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন জানান।

 

 

শাকিলুজ্জামান
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *