জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হচ্ছে পারস্পরিক আস্থা। সরকার ও বিরোধী দল একে অপরকে বিশ্বাস না করলে গণতন্ত্র কার্যকরভাবে চলতে পারে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা ও মোঃ মাহমুদুল হক রুবেলের শপথ গ্রহণ শেষে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
চীফ হুইপ জানান, শপথ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। কোনো সমস্যা হলে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া বা সরাসরি তাকে জানানোর কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, সরকার এই খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। তার দাবি, অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করতে চায়।
সংসদে ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শেরপুরের একটি নির্বাচনকে ঘিরে একজন বিরোধী দলীয় সদস্য মৃত্যুর ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন চীফ হুইপ। তিনি বলেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আইন প্রণয়নের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে ১৬টিতে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সেগুলো বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। বাকি ১১৭টি অধ্যাদেশ সংসদে পাস করা হয়েছে, যা মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে—এটিকে তিনি দেশের সংসদীয় ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে দাবি করেন।
তবে সামান্য সংশোধনী ইস্যুতে বিরোধী দলের ওয়াকআউটকে তিনি দুঃখজনক বললেও এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে স্বীকার করেন।
এছাড়া, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরতে ‘জুলাই যাদুঘর’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান চীফ হুইপ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা একত্র করে এই উদ্যোগকে একটি “জীবন্ত ইতিহাস” হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
সব মিলিয়ে, সরকারের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে এই ব্রিফিংয়ে।