কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে পীর শাহ সুফি শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’। সংগঠনটি বলছে, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই ভয়াবহ প্রতিফলন।
শনিবার (১১ই এপ্রিল) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে একদল উত্তেজিত জনতা একটি পুরোনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালায়। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট দরবারে অগ্নিসংযোগও করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো যায়নি।
এক বিবৃতিতে ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে প্রায় শতাধিক মাজার, খানকাহ ও দরগাহে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এই ধরনের ‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ না হওয়া উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংগঠনটি।
সংগঠনের অভিযোগ, ধর্মের অপব্যাখ্যা ব্যবহার করে কিছু উগ্র গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে সহিংসতায় উসকে দিচ্ছে। এতে শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে না, বরং দেশের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এই হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সব হামলার তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করতে বিশেষ গোয়েন্দা সেল গঠন, দায়িত্বে অবহেলার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে সরকারকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের মৌলিক কার্যকারিতার ওপর প্রশ্ন তোলে। সহনশীলতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়লে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানালেও এখনো পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে গণপিটুনি ও গুজব-নির্ভর সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।