জাকির হোসেন
মানুষ বড় অদ্ভুত এক মায়াজালে আটকা পড়ে থাকে সারাজীবন। কেউ ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে যায়, আবার কেউ কেউ ক্ষমতার চেয়ারে বসেও মাটির কাছাকাছি থেকে যায় অবলীলায়। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক এস এম ওবাইদুল হক নাসির যেন সেই দ্বিতীয় দলের একজন মানুষ। তাকে দেখে মনে হয়, বিধাতা বুঝি কিছু মানুষকে পাঠিয়েছেন শুধু অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।
সেদিন খুব কৌতূহল নিয়ে জেলা পরিষদে গিয়েছিলাম। গিয়ে যা দেখলাম, তাকে জাদুকরী মায়া ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। শত মানুষের ভিড়, অথচ সেই ভিড়ের মাঝেও মানুষটি কী আশ্চর্য শান্ত! যেন শরতের মেঘমুক্ত আকাশের মতো এক চিলতে হাসি তার ঠোঁটে লেগেই আছে। সাদা মনের এই বলিষ্ঠ মানুষটিকে দেখে একবারের জন্যও মনে হবে না যে তিনি একটি বড় পদের ভার বইছেন।
একেকজন মানুষ আসছেন তাদের হাজারো সমস্যা নিয়ে। নাসির সাহেব খুব শ্রুতিমধুর সুরে, শান্ত ভঙ্গিতে একের পর এক সমস্যার সমাধান দিচ্ছেন। যাদের কাজ হয়ে যাচ্ছে, তারা একরাশ তৃপ্তি নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার যারা নতুন আসছেন, তাদের অত্যন্ত কোমল সুরে অপেক্ষা করতে বলছেন। তার এই আচরণের ভেতরে কোনো ক্লান্তি নেই, কোনো বিরক্তি নেই। মনে হচ্ছিল, তিনি বুঝি কোনো অদ্ভুত মায়াজালের যোগাযোগে সবার হৃদয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন।
এক পর্যায়ে তিনি সিট ছেড়ে উঠলেন। মিলনায়তনে তখন অপেক্ষা করছিল মসজিদ আর কবরস্থানের সাহায্যের চেক নিতে আসা একদল মানুষ। সেখানে গিয়ে দ্রুত হাতে চেকগুলো তুলে দিয়ে আবার ফিরে এলেন নিজের আসনে। ক্লান্তি তাকে স্পর্শ করতে পারছে না। নিরলসভাবে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন শুধু মানুষের সেবায়।
“মানুষের জীবন তো আসলে নদীর মতো, যে নদী অন্যকে তৃষ্ণা মেটাতে সাহায্য করে, তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে আসল সুখ।” এস এম ওবাইদুল হক নাসির যেন সেই প্রবহমান নদীর মতোই এক মানুষ, যার কাছে এসে দাঁড়ালে মনে হয় পৃথিবীটা এখনো সুন্দর, এখনো এখানে ভালো মানুষরা টিকে আছে।
টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের এই বারান্দায় আজ যে মানবতার অভিষেক ঘটছে, তার রেশ রয়ে যাক অনেকদিন। কারণ, এমন নিরন্তর সহজ-সরল প্রাণ এই রুক্ষ সময়ে খুব বেশি দেখা যায় না।