কবিতা ও কবিদের গল্পে স্মৃতিময় সন্ধ্যা

জাতীয় কবিতা পরিষদের নিয়মিত কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের ৫০তম আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৪ অক্টোবর, মঙ্গলবার, বিকাল ৫টায় ২৬ ইস্কাটন গার্ডেন রোডের ‘কাজল মিলনায়তন’-এ। পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘কবি ও কবিতার গল্প’ বিষয়ে মূল আলোচনা করেন ৭০ দশকের বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আতাহার খান। তিনি বলেন, “একটা নতুন উচ্চমার্গের কবিতায় কিছু ছবি, রং ও নতুন চিত্রকল্প থাকতে হবে। তাহলেই সেই কবিতা টিকে থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, সমাজতান্ত্রিক দেশে কবিদের জীবন নিরাপদ হলেও আমাদের দেশে অধিকাংশ কবিকে দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়।

আতাহার খান তাঁর আলোচনায় বাংলা কবিতার ইতিহাস, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও জীবনানন্দ দাশসহ বিভিন্ন অগ্রজ কবিকে নিয়ে নানা স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বহুভাষাবিদ ছিলেন এবং তাঁর কবিতার প্রতিটি শব্দ উচ্চমার্গের। জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি বড় মাপের কবি হলেও অনেক ভুল উপমা ব্যবহার করেছেন।”

কবি শামসুর রাহমানের প্রসঙ্গে আতাহার খান বলেন, “একটি কবিতা প্রথম পাঠেই পাঠকের ভালো লাগা তৈরি করতে পারলে সেটিই প্রকৃত কবিতা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কবিতার ভাষা ও প্রকাশভঙ্গীতে অভিনবত্ব আনাই একজন কবির প্রধান কাজ।

আলোচনার পর স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি তুষার দাশ, জিললুর রহমান, শ্যামল জাকারিয়া, কবীর হুমায়ুন, আসাদ কাজল, গোলাম সফিক, ইউসূফ রেজা, জামিল জাহাঙ্গীর, রোকন জহুর, মনিরুজ্জামান রোহান, শিমুল পারভীন, আবুল খায়ের ও কাব্য রাসেলসহ পঞ্চাশাধিক কবি।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়নটের ছাত্রী ও সাওল হার্ট সেন্টারের পুষ্টিবিদ মিশু দাস, কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ এবং পারুল বনিক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি মনিরুজ্জামান রোহান ও কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ।

বহু কবি, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজনটি পরিণত হয় কবিতা, স্মৃতি ও হাস্যরসে ভরা এক প্রাণবন্ত সন্ধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *