২০২৬ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজন নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও বিলম্বে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের প্রকাশক, লেখক ও পাঠক সমাজ। তারা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মেলা আয়োজনের প্রস্তাব বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সভায় বক্তারা জানান, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন, এরপর রমজান ও ঈদুল ফিতর—এই সময়সারণির কারণে এপ্রিলের আগে বইমেলা আয়োজন কার্যত অসম্ভব। অন্যদিকে এপ্রিলের প্রচণ্ড গরম ও ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে বিশাল মেলার কাঠামো নিরাপদে পরিচালনা করাও বাস্তবসম্মত নয়।
তারা মনে করেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতীক। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং জাতির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্য। এই মেলা বাধাগ্রস্ত হলে তা জাতির সাংস্কৃতিক পরাজয়ের শামিল হবে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি প্রস্তাব গৃহীত হয়—
১️⃣ ২০২৬ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলা ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে আয়োজন করতে হবে।
২️⃣ সরকার ও বাংলা একাডেমিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে প্রকাশক, লেখক ও পাঠক সবাই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেন।
৩️⃣ নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে সময়মতো মেলা আয়োজনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বইমেলা বন্ধ বা বিলম্বিত হওয়ার যুক্তি হিসেবে যে নিরাপত্তা-ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে, তা দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। দেশের ইতিহাসে কখনও বইমেলা সন্ত্রাস বা বিশৃঙ্খলার কারণে বন্ধ হয়নি—এটিই প্রমাণ করে যে বইমেলা জাতির ঐক্য ও প্রগতির প্রতীক।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি শেখ আবু বাশার ফিরোজ ।
এ সময় বক্তব্য দেন বাপুসের সহ-সভাপতি গোলাম এলাহী জায়েদ, প্রকাশক মনিরুজ্জামান খান (সঞ্চিতা), লেখক শিবলী আজাদ ও পুলীন বকসী।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন প্রকাশক ইফতেখার আমিন (শব্দশৈলী), আবু বকর সিদ্দিক রাজু (স্বর অ), **মঈন মুরসালিন (প্রকাশক ও সম্পাদক)**সহ আরও অনেকে।
সভা শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে উপস্থিত লেখক, পাঠক, প্রকাশক ও বাপুসের বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটি বলেন—
“বইমেলা কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিলম্বের বিষয় নয়; এটি জাতির মননের উৎসব। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২৬ যেন সময়মতো, নিরাপদে এবং যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়।”