বিএনপি-মিত্রদের আসন ভাগাভাগি জটিলতায় উদ্বিগ্ন শরিক দলগুলো

 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগি বিষয়টি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার শরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৩০টি আসন ছাড় দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে শরিকরা দুই শতাধিক আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা জমা দিয়েছে।

জোটের প্রধান শরিকদের মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ ১৩৮, ১২ দলীয় জোট ২১, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ৯, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ১৩, জাতীয় পার্টি-বিজেপি ৫ এবং গণফোরাম ১৫টি আসনের প্রার্থীর নাম দিয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দলটি জরিপের মাধ্যমে প্রার্থীদের সম্ভাবনা যাচাই করছে।

তবে শরিক দলগুলোর উদ্বেগ কেবল আসন সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচনকালীন জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) প্রস্তাবিত পরিবর্তন এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আরপিও পরিবর্তনের ফলে তারা বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ব্যবহার করতে পারবে না। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে জয় পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যাবে।

শরিক দলগুলো মনে করছেন, স্থানীয় স্তরে তাদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। তবে কমিশনের বিধান অনুযায়ী, জোটের প্রার্থী হলেও তাদের নিজ দলের প্রতীকেই লড়তে হবে। এতে ধানের শীষের ভোটব্যাংক কাজে লাগবে না।

এসময় ঝিনাইদহ-২, কিশোরগঞ্জ-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, পটুয়াখালী-৩ ও বগুড়া-৪ আসনে উদাহরণ স্বরূপ দেখা যাচ্ছে, বিএনপির স্থানীয় নেতা ও মিত্র দলের নেতাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। বিষয়টি নিয়ে শরিকরা উদ্বিগ্ন, কারণ তাদের জয়ের সম্ভাবনা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, যেখানে জোট নেতাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে বিএনপি তাদের পাশে থাকবে। তবে সব চাওয়া পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *