শ্যামনগরে আজাবা শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা

 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগরে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় শাক ও অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আয়োজিত “আজাবা শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা” সম্পন্ন হয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় সবুজ সংহতি ও স্থানীয় জনসংগঠনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই মেলায় অংশগ্রহণ করেন শীলতলা গ্রামের পাঁচটি জনসংগঠনের ২০ জন সদস্য। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে থানকুনি, হেলাঞ্চ, শাপলা, গাদোমনি, আদাবরুন, পেপুল, ইপিলইপিল, দুর্বা, তুলশি, বামনআটি, কলমি, ঘুমশাকসহ মোট ৯০ প্রজাতির অচাষকৃত উদ্ভিদ। অংশগ্রহণকারীরা প্রতিটি উদ্ভিদের গুণাগুণ, প্রাপ্তিস্থান, মৌসুম, মানুষ ও প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার ইত্যাদি তুলে ধরেন।

রান্না প্রতিযোগিতায় স্থানীয় নারীরা শাক, মূল ও কন্দজাত উপাদান দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করেন। পাঁচ সদস্যের বিচারকমণ্ডলী স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও উপস্থাপনার ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করেন। আজাবা শাক প্রদর্শনীতে ১ম স্থান অর্জন করেন মালতি রানী, ২য় হন শিখা রানী ও ৩য় স্থান অধিকার করেন পৃথা রানী। রান্না প্রতিযোগিতায় ১ম হন ইতি রাণী, ২য় রিংকু রাণী ও ৩য় হন অঞ্জলী রাণী।

উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির জন্য এই অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি, বাজারভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লবণাক্ততার কারণে এ ধরনের উদ্ভিদের স্থান ক্রমেই কমছে। তাই এদের সংরক্ষণ ও ব্যবহার প্রসারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজ সংহতির সভাপতি জিল্লুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম, স্থানীয় ইউপি সদস্য কমলা রানী মৃধা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব বাছাড়, কৃষাণী অল্পনা রানী, কৃষাণী মিতা রানী, কৃষক চিত্তরঞ্জন, বারসিক কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, বিশ্বজিৎ মন্ডল, মফিজুর রহমান, মিলন হোসেন ও বরষা রানী প্রমুখ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *