‘তারুণ্যের উৎসব’ উদযাপনের অংশ হিসেবে আগামী ১৫ থেকে ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আইকেএফ নারী কাবাডি বিশ্বকাপ–২০২৫’। বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে আজ বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের ডাচ-বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১২ সালের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারী কাবাডি বিশ্বকাপ। এবারের আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও আর্জেন্টিনা, চাইনিজ তাইপে, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইরান, ভারত, জাপান, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, থাইল্যান্ড, উগান্ডা ও জাঞ্জিবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া পাকিস্তান ও পোল্যান্ডকে স্ট্যান্ডবাই দল হিসেবে রাখা হয়েছে।
আয়োজক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টুর্নামেন্টের মূল ভেন্যু হিসেবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী জাতীয় ইনডোর স্টেডিয়াম বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বিদেশি দলগুলোর আগমন, আবাসন, নিরাপত্তা ও স্থানীয় যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম, কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আইজিপি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ এবং যুগ্ম সম্পাদক আবদুল হক।
নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে এনএসসি নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন,
“নারীরা খেলবে, তাই বিষয়টি সেনসেটিভ। নিরাপত্তার দিকটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।”
বিশ্বকাপের বাজেট সম্পর্কে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ জানান, বাজেট ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অনুদান থাকবে ৫ কোটি টাকা, আর বাকি অর্থ পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় সংগ্রহ করা হবে। তিনি বলেন,
“সরকারের যথেষ্ট সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি। সফলভাবে এই আসর আয়োজন করতে পারলে কাবাডি ফেডারেশনের তহবিলও শক্তিশালী হবে।”
বর্তমানে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল বিকেএসপিতে নিবিড় প্রশিক্ষণে রয়েছে। বিশ্বকাপে দেশের লক্ষ্য সম্পর্কে নেওয়াজ সোহাগ বলেন,
“কাবাডির বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন পঞ্চম। এবার আমরা দুই বা তিনে উঠতে চাই। সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”
বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের আয়োজনে এই বিশ্বকাপ কেবল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং নারী ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশের এক নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।