রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান: জাতিসংঘে ড. ইউনুস

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা মুসলমান ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে  প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন— রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান হলো তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ঘটার পর আট বছর কেটে গেলেও সংকট নিরসনের উদ্যোগ প্রায় নেই বললেই চলে। আন্তর্জাতিক তহবিল দ্রুত কমে যাচ্ছে, অথচ শরণার্থী শিবিরে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দেওয়ার চেয়ে প্রত্যাবাসন অনেক কম ব্যয়সাপেক্ষ। রোহিঙ্গারা বারবার জানিয়েছে, তারা নিজেদের ঘরে ফিরতে চায়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটের জন্ম মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর চাপ দিতে হবে— মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে নির্যাতন বন্ধ করে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। বিপুল আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের পাশাপাশি সীমান্ত থেকে মাদক পাচারসহ নানা অপরাধও বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নিজের দেশের দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কয়েকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন—
১. রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন।
২. মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর চাপ সৃষ্টি করে সহিংসতা বন্ধ ও প্রত্যাবাসন শুরু।
৩. রাখাইনে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংগঠিত করা এবং বেসামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
৪. রোহিঙ্গাদের রাখাইন সমাজ ও প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করতে আস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া।
৫. যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (Joint Response Plan) বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করা।
৬. জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া।
৭. মাদক অর্থনীতি ও সীমান্ত অতিক্রমী অপরাধ দমন।

তিনি বলেন, বিশ্ব আর রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার আশা নিয়ে অনিশ্চয়তায় বসে থাকতে দিতে পারে না। সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি জানায়— এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *