ফিলিস্তিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ফাতাহ দলের প্রভাবশালী নেতা মারওয়ান বারঘুতিকে ইসরায়েলি কারারক্ষীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে অচেতন করে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার পরিবার আশঙ্কা করছে, তিনি এখনও জীবিত আছেন কিনা তাও নিশ্চিত নয়।
বারঘুতির ছেলে আরব বারঘুতি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন প্রাক্তন বন্দির সাক্ষ্য থেকে তারা এই তথ্য পেয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর গনোট কারাগার থেকে মেগিদো কারাগারে স্থানান্তরের সময় আটজন ইসরায়েলি রক্ষী ৬৬ বছর বয়সী বারঘুতির ওপর হামলা চালায়।
আরব বারঘুতি বলেন, “বাবাকে স্থানান্তরের পথে আটজন রক্ষী মিলে থামিয়ে দেয় এবং মাথা, বুক ও পায়ে নির্বিচারে লাথি-ঘুষি মারে। পিটুনির সময় তিনি জ্ঞান হারান।”
মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের বরাতে তিনি আরও জানান, “মেগিদো কারাগারে নেওয়ার পর বাবার হাঁটাচলাতেও কষ্ট হচ্ছিল। কয়েকদিন তিনি প্রায় চলতে পারছিলেন না।”
ফিলিস্তিনি বন্দিদের নিয়ে কাজ করা আসরা মিডিয়া অফিস জানায়, ওই হামলায় বারঘুতির চারটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
ঘটনাটি ঘটে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভিরের এক কারাগার পরিদর্শনের পর। চরম ডানপন্থি এই রাজনীতিক অতীতে বর্ণবাদী উসকানি ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই সময় প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বারঘুতিকে উসকানিমূলক আচরণকারী বলে অভিযুক্ত করেন এবং তাকে বৈদ্যুতিক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দেন।
তবে ইসরায়েলি দৈনিক মারিভ-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বেন গিভির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি গর্বিত যে আমার সময়ে কারাগারে আর ছুটির আমেজ নেই। খুনি বারঘুতি এখন জানে, সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।”
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা মারওয়ান বারঘুতি ফিলিস্তিনিদের কাছে একজন জাতীয় প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তাকে পাঁচটি যাবজ্জীবন ও ৪০ বছরের অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যদিও আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়ন তার বিচার প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছে।
মার্কিন মধ্যস্থতায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ২৫০ জন আজীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়ে মিশরে পাঠানো হলেও বারঘুতিকে তালিকা থেকে বাদ দেয় ইসরায়েলি সরকার।
আরব বারঘুতি বলেন, “আমার বাবা যুক্তির কণ্ঠস্বর। তিনি জনপ্রিয়ই নন, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা, যিনি সবসময় দুই রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে ছিলেন। ইসরায়েল তাঁকে মুক্ত না করে আসলে দেখিয়ে দিয়েছে—তারা কোনো ঐক্যবদ্ধ ও বিশ্বাসযোগ্য ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব চায় না, বরং আমাদের বিভক্ত রাখতেই আগ্রহী।”
সূত্র : দি গার্ডিয়ান