ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া ৩৫ বছর বয়সী নারী দাবা গ্র্যান্ডমাস্টার আনা মুজিচুক সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বিশ্ব দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের কারণ—নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধ।
মুজিচুক বলেন, “কয়েক দিনের মধ্যেই আমি পরপর দুটি বিশ্ব শিরোপা হারাবো, কারণ আমি সৌদি আরবে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি জানান, নারী খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত বিশেষ নিয়ম—আবায়া পরা, পুরুষ সঙ্গী ছাড়া হোটেল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, এসব তিনি মেনে নিতে রাজি নন।
তার ভাষায়, “আমি বিশেষ নিয়ম মেনে খেলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি। নারী হলেও আমি দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ নই।”
নিজের নীতির প্রতি অটল থেকে আনা মুজিচুক বলেন, “আমি আমার নীতি অনুসরণ করব এবং বিশ্ব ফাস্ট চেস ও ব্লিটজ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেব না, যদিও মাত্র পাঁচ দিনে আমি অন্যান্য টুর্নামেন্টের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ জিততে পারতাম।”
তিনি আরও বলেন, “এ সব খুবই খারাপ ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কেউই পাত্তা দিচ্ছে না। তিক্ত লাগছে, কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড়।”
আনা মুজিচুকের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার ও ক্রীড়া সমতার প্রতীক হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন—অর্থ বা পুরস্কারের চেয়ে নৈতিকতা ও মানবিক মর্যাদা অনেক বড়।