বানারীপাড়ায় তহশিলদার ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

 

বানারীপাড়া সদর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, তার অফিসে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না, এমনকি স্বাক্ষর করতেও তিনি অর্থ দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বানারীপাড়া বাজারের নদী সিকিস্তির জমির বিভিন্ন খতিয়ানের বন্ধ থাকা ভূমি উন্নয়ন কর তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আদায় করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নদী সিকিস্তি হওয়া বাজার এলাকার কিছু জমির একাধিক দাখিলার মাধ্যমে তিনি লক্ষাধিক টাকা ঘুষ নিয়েছেন। টাকা না দিলে নাগরিকদের নানা অজুহাতে ঘুরপাক খেতে হয়, কিন্তু ঘুষ দিলেই মুহূর্তেই “সব সমস্যার সমাধান” হয়ে যায় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

আরও জানা যায়, শ্মশান শ্রেণিভুক্ত সরকারি জমি ব্যক্তিগত নামে দাখিলা কাটানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, “সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না, অফিসে ঠিকভাবে বসেনও না তিনি। দালালদের মাধ্যমেই অফিস পরিচালনা করেন।”

অফিস পরিদর্শনে দেখা গেছে, তিনি প্রায়শই বহিরাগত দালাল ও ব্যক্তিগত কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজ করান। ফলে সাধারণ মানুষ তার অফিসে কোনো বৈধ কাজ করাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সহকর্মীদের সঙ্গেও তার রূঢ় আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনীব বলেন, “যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় বা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।”

এদিকে সচেতন নাগরিকদের দাবি, ওবায়দুর রহমান ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব করে তদন্ত করা হোক। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—“বানারীপাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কেন একজন উপ-সহকারী দিয়েই অফিস পরিচালিত হচ্ছে?”

স্থানীয়রা দ্রুত ওবায়দুর রহমানকে অপসারণ করে একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে হয়রানি নয়, সেবা পান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *