বিজয় মজুমদার
দিনাজপুর সেইন্ট জোসেফ স্কুল আমার দ্বিতীয় স্কুল। আমার প্রথম স্কুলের নাম নির্মল শিশু বিদ্যালয়। কিন্তু তৃতীয় দিন স্কুল পালানোর কারণে আমার পক্ষে আর নির্মল থাকা সম্ভব হলো না।
এরপর আমার মা আমাকে নিয়ে ভর্তি করে দিলেন দিনাজপুর সেইন্ট জোসেফ স্কুল এ, আর সেই সাথে সতর্ক বার্তা, স্কুল পালিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হওয়ার চেষ্টা করলে পিঠের চামড়া আস্ত থাকবে না।
এই হুমকি খুব বেশি কার্যকর হতো না যদি না আমি সেইন্ট জোসেফ স্কুল, স্কুল এ পড়া আমার সুন্দরী বান্ধবী আর স্কুলের এক শিক্ষক এর প্রেমে পড়তাম। বিয়ে করে ফেলার কারণে বান্ধবী (দের) কথা উল্লেখ করলাম না। তবে প্রথম দিন যে শিক্ষক আমাকে আজীবন এর ভালবাসার জালে জড়িয়ে ফেলেছিলেন তার গল্পটা বলি।
প্রথম দিন। স্কুল এ একপাল শিশু। এদের মধ্যে আবার একদল এমন সূত্রে কাঁদছে তাতে মনে হচ্ছে এদের স্কুল নয় জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।
এমন সময় দেখতে কালো, মোটাসোটা একজন লোক এসে হাজির। মুখে হাসি আর হুইসেল বাঁশী। তিনি বাঁশীতে জোরে একটা ফুঁ দিয়ে বললেন, আমি তোমাদের সাথে খেলা খেলতে এসেছি। যে আমাকে সবার আগে ছুঁতে পারবে তাঁকে আমি চকলেট উপহার দিবো। রাজী!
কথা শেষ হওয়ার আগেই ছুটলাম, স্যারকে ধরতেই হবে। উনার দৌড় খুব জোরে না, আবার কেউ তাঁকে ধরতেও পারছে না।
সেই বয়সেই সন্দেহ করে বসলাম। জাপটে ধরে সোজা পকেটে হাত।
শীতকাল বলে একটা কালো রঙের কোট পড়ে এসেছিলেন।বাম পকেটে হাত। কোন চকলেট নেই। ডান পকেটে হাত। সেটাও ফাঁকা।
পকেটে থেকে হাত বের করা শেষ হয়নি, দুটি হাত শক্ত করে আমাকে কোলে তুলে নিল। বলল, আরে বোকা, চকলেট কী পকেটে থাকে। চল দোকান গিয়ে তোকে চকলেট কিনে দিবো। আমার এই শিক্ষকের নাম এনায়েত এ পীর রুমী।
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে পেশাগত ভাবে তিনি শিক্ষক ছিলেন না। পেশায় তিনি ছিলেন সোনালী ব্যাংকের একজন অফিসার।
অথচ শিশুদের প্রতি ভালোবাসায় তিনি ব্যাংকিং এর কাজে যোগ দেওয়ার আগে শিশুদের জন্য হয়ে যেতেন ক্রীড়া শিক্ষক।
শিক্ষক দিবসে আমার এই শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা, যিনি শিক্ষকতা পেশাকে এক মহান পেশায় পরিণত করেছিলেন।