অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত

 

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের সভা ২০ অক্টোবর (সোমবার) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর কারিগরি সহায়তায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ। সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব ও প্রতিনিধি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, “ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগ ও অকালমৃত্যু রোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যেই ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিয়ে যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়েছে।”

সভায় শিক্ষা, যুব, ক্রীড়া ও নগর উন্নয়ন খাতের প্রতিনিধিরা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, আচরণগত পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

যৌথ ঘোষণার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন। আলোচনায় পারস্পরিক সমন্বয়, যৌথ জবাবদিহিতা কাঠামো এবং বাস্তবায়নের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন, বিদ্যালয়ে ‘হেলথ প্রমোটিং স্কুল (এইচপিএস)’ কাঠামো সংযোজন, তামাক ও মাদকমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, স্বাস্থ্যকর খাদ্য সরবরাহ, কারিগরি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসচেতনতা জোরদার, ‘হেলথ মার্কেট’ ও ‘হেলথি রুরাল মার্কেট’ সার্টিফিকেশন চালু এবং যুবদের মধ্যে ‘মুভ বাংলাদেশ’ ও ‘ফিট ইয়ুথ, ফিট ন্যাশন’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি সভায় বলেন, “অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে।”

বাংলাদেশে প্রতি বছর হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও শ্বাসযন্ত্রজনিত অসংক্রামক রোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটে। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগকে বিশেষজ্ঞরা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *