বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবদান সবসময়ই গর্বের। পাহাড়ি কিশোর-কিশোরীদের প্রতিভা বহুবার জাতীয় পর্যায়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার রাঙ্গামাটিতে স্থাপিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) আঞ্চলিক শাখা—যা পাহাড়ের খেলোয়াড় তৈরিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও প্রশাসন।
রাঙ্গামাটির ১০৪ নম্বর ঝগড়াবিল এলাকার তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ায় বিকেএসপির এই আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে জায়গা পর্যালোচনা চলছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ জানিয়েছেন, বিকেএসপির মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জমি পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “রাঙ্গামাটিতে বিকেএসপি শাখা স্থাপনের এই উদ্যোগ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফিরিয়ে আনবে। সরকার দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করবে বলে আমরা আশাবাদী।”
দেশের সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য বরুণ দেওয়ান এই উদ্যোগকে “ঐতিহাসিক” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “একসময় রাঙ্গামাটিতে প্রশিক্ষণ সুবিধা ছিল না, তবুও এখানকার তরুণরা দেশের জন্য খেলেছে। বিকেএসপি আসলে এই অঞ্চল থেকে আরও দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি হবে।”
স্থানীয় হেডম্যান সুরঞ্জন দেওয়ান জানান, তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার মনোরম পাহাড়-হ্রদের পটভূমিতে বিকেএসপি স্থাপনের জন্য জমি পর্যালোচনা চলছে। তিনি বলেন, “স্থানীয় জমির মালিকরাও স্বেচ্ছায় জমি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটি পুরো জেলার মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।”
উঠতি খেলোয়াড়রাও আশাবাদী। তাদের মতে, বিকেএসপির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শহরের কাছাকাছি হওয়ায় রাঙ্গামাটির দশ উপজেলার তরুণরা সহজেই সুযোগ পাবে। এতে পাহাড়ের প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীদের খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তারা আশা করছেন, দ্রুতই বিকেএসপির আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হবে এবং রাঙ্গামাটি আবারও জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন নক্ষত্র উপহার দেবে।
রাঙ্গামাটিতে বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়—এটি পাহাড়ের পিছিয়ে থাকা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার জানালা খুলে দিচ্ছে।