ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মঙ্গলবার রাতে জনবহুল দ্বীপ সেবুর উত্তর প্রান্তে অবস্থিত বোগো শহরের কাছে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। প্রায় ৯০ হাজার মানুষের বসবাস এই ছোট্ট শহরে।
সরকারের বেসামরিক প্রতিরক্ষা অফিসের উপ-প্রশাসক রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রো বুধবার সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত ৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা সারারাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতায় বহু ভবন ধসে পড়ে এবং রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি সেবা দিতে গিয়ে উদ্ধারকর্মীদেরও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভূমিকম্পে বোগো শহরের হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের কিছু এলাকায় পুরোপুরি ভবন ধসে পড়ায় উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ভূমিকম্প প্রশান্ত মহাসাগরীয় “রিং অফ ফায়ার” অঞ্চলে প্রায়ই ঘটে থাকে। এই অঞ্চলটি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রাণহানির পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারানো হাজারো মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। স্থানীয় প্রশাসন তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ভূমিকম্প আবারও ফিলিপাইনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটিতে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও ভূমিকম্প আঘাত হানে, তবে এরকম বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগবে।
