মিরাজের নেতিবাচক এপ্রোচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার

বাংলাদেশ ওয়ানডে দল যেন আবারও সত্তরের দশকের ক্রিকেটে ফিরে গেছে। ধীর গতির ব্যাটিং, অদ্ভুত বোলিং পরিবর্তন আর নেতিবাচক চিন্তার কৌশলে হারছে একের পর এক ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সুপার ওভারে হারও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ম্যাচটি সুপার ওভারে যেতই না, যদি অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বোলারদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতেন। মোস্তাফিজুর রহমানকে দুটি ওভার না করানো, সাইফকে মিডল ওভারে না এনে ম্যাচের শেষভাগে বল করানো—এসব সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

তবে মূল বিপর্যয়টা এসেছে ব্যাট হাতে মিরাজের কাছ থেকেই। ছয় নম্বরে নেমে ইনিংসে ২২ ওভার বাকি থাকতে ৫৮ বল খেলে করেছেন মাত্র ৩২ রান! বাউন্ডারি মেরেছেন মাত্র একটি। ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে স্ট্রাইকে থেকেও ২৬ বলে ১৩টি ডট—অর্থাৎ অর্ধেক বলেই কোনো রান তুলতে পারেননি। তাঁর ব্যাটিংয়ের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বাংলাদেশের স্কোর বড় হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভাগ্যিস শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহান আর রিশাদ হোসেন স্লগিং করেছেন, নইলে স্কোর ১৭০-১৮০-এর মধ্যে থেমে যেত।

ডট বলের দিক দিয়েও বাংলাদেশ পিছিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫৮ শতাংশ ডট বল খেললেও বাংলাদেশ খেলেছে ৬৪ শতাংশ—অর্থাৎ ৫০ ওভারে ১০৮টি স্কোরিং শটের বেশি করতে পারেনি দলটি। সত্তর দশকে যখন ওয়ানডে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়, তখনও এত ডট বল খেলতো না দলগুলি! বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাংলাদেশের ব্যাটিং মানসিকতার এক চিরাচরিত রোগ।

অধিনায়ক হিসেবেও মিরাজের ব্যর্থতা চোখে পড়েছে। বোলারদের অদ্ভুত ব্যবস্থাপনা, ডিফেন্সিভ ফিল্ড সেটিং এবং ব্যাটিংয়ে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক মনোভাব দলের জয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দল নির্বাচনের প্রশ্নেও উঠেছে সমালোচনা। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অফ স্পিনার হিসেবে মিরাজের চেয়ে মোসাদ্দেক হোসেন ও শেখ মেহেদি অনেক বেশি কার্যকর, আর ব্যাটিংয়ে মোসাদ্দেকই আদর্শ নাম্বার সিক্স ব্যাটার। পাঁচ নম্বরে ইয়াসির রাব্বি, আফিফ হোসেন বা মাহমুদুল হাসান জয়—তরুণ ও সৃজনশীল ব্যাটারদের সুযোগ না দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে।

অপরদিকে, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে মাত্র ৭০ স্ট্রাইক রেট থাকা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের অভিষেক করানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দুই ম্যাচে তাঁর ব্যাটিংয়েও দেখা গেছে সেই পুরনো ধীরগতি।

ক্রিকেট অপারেশন্স থেকে শুরু করে নির্বাচক কমিটি পর্যন্ত—সব জায়গায় সিদ্ধান্তহীনতা ও কৌতুকপূর্ণ পরিকল্পনার দায়েই বাংলাদেশ ওয়ানডে দল এখন ব্যর্থতার দোলাচলে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে আবারও ২০০৩ সালের ব্যর্থতা ফিরে আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *