সরকার বাড়িভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেওয়ায় টানা আন্দোলনের পর অবশেষে শ্রেণিকক্ষে ফিরছেন দেশের সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। বুধবার (২২ অক্টোবর) থেকে তারা স্বাভাবিক ক্লাসে অংশ নেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসাইন আজিজী এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, “টানা আটদিন শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে যেতে পারেননি। এটা আমাদের ন্যায্য দাবি ছিল। সরকার দাবি পূরণ করায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বার্ষিক পরীক্ষার আগ পর্যন্ত শনিবারও ক্লাস চালু রাখবো, যাতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের তিন দফা দাবির মধ্যে বড় দাবিটি—বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি—সরকার মেনে নিয়েছে। আমরা আন্দোলন করে প্রজ্ঞাপন নিয়েই বাড়ি ফিরছি। তাই সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।”
এর আগে মঙ্গলবার সকালে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সচিবালয়ে শিক্ষক প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বৈঠকে ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়। পরবর্তীতে দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগ থেকে সম্মতিপত্র জারি করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোসা. শরীফুন্নেসার সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ যুক্ত হবে—সব মিলিয়ে ১৫ শতাংশ (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরে এসেছে। যদিও আন্দোলনরত শিক্ষকরা শুরুতে ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা দাবি করেছিলেন, তবুও ১৫ শতাংশে সরকারের সম্মতিকে তারা “আন্দোলনের বিজয়” হিসেবেই দেখছেন।