সাইবার অপরাধ দমনে একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে। জাতিসংঘের উদ্যোগে নেওয়া এই চুক্তিতে প্রায় ৬০টি দেশ সই করছে, যা বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ৪০টি দেশ অনুমোদন দিলে চুক্তিটি কার্যকর হবে। এতে ফিশিং, র্যানসমওয়্যার, অনলাইন পাচার, ঘৃণাত্মক বক্তব্যসহ নানা সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সহজ হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “সাইবার দুনিয়া এখন অপরাধীদের উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই প্রতারণা ও জালিয়াতিতে মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। এই চুক্তি আমাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোরদারের জন্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আইনি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।”
ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট লুয়ং কুয়ং বলেন, “এই চুক্তি শুধু একটি আইনি নথির জন্ম নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে দেশগুলো শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।”
তবে চুক্তি নিয়ে বিতর্কও উঠেছে। অধিকারকর্মী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সংগঠন ‘সাইবারসিকিউরিটি টেক অ্যাকর্ড’ একে “নজরদারি চুক্তি” বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এটি সরকারগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়াবে এবং নৈতিক হ্যাকারদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি করবে।
তবে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দফতর (UNODC), যারা আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছে, জানিয়েছে—চুক্তিতে মানবাধিকার রক্ষার স্পষ্ট ধারা রয়েছে এবং বৈধ গবেষণাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ প্রায় ৬০টি দেশ ইতিমধ্যে হ্যানয়ে চুক্তিতে সই করেছে।
ভিয়েতনামকে আয়োজক দেশ হিসেবে বেছে নেওয়া নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর সম্প্রতি দেশটিতে অনলাইন সেন্সরশিপ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এই বছর অন্তত ৪০ জনকে অনলাইনে মত প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে ভিয়েতনাম সরকার বলছে, এই চুক্তি তাদের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বাড়তে থাকা সাইবার হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদারে সহায়তা করবে।