আবিদজান, ২৫ অক্টোবর — পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সাবেক আন্তর্জাতিক ব্যাংকার আলাসান ওয়াতারা (৮৩) প্রায় ১৫ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার দাবি করে চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়ছেন। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটিই হতে পারে তাঁর শেষ নির্বাচন।
ওয়াতারা ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসেন, চার মাসের এক গৃহযুদ্ধের পর—যে সংঘাতে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। ওই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লরেন্ট গবাগবোর নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়াকে কেন্দ্র করে।
আজকের ভোটে ৮০ লাখেরও বেশি ভোটার তালিকাভুক্ত। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ হতে পারে পাঁচ দিনের মধ্যে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উত্তরসূরির প্রশ্নে অনিশ্চয়তা
গবাগবো ও সাবেক ক্রেডিট সুইস প্রধান টিজানে থিয়াম এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ফলে ওয়াতারার জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন—তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা নেই।
ওয়াতারা জুলাইয়ে প্রার্থীতা ঘোষণা করে বলেছিলেন, “আমার চতুর্থ মেয়াদ হবে প্রজন্মের হাতবদল।” সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকারও করেছেন, “এই বয়সে আগের মতো দ্রুত কাজ করা সহজ নয়।”
দেশটির গড় বয়স মাত্র ১৮ বছর। অনেক তরুণ মনে করছেন, এখন নেতৃত্বের পরিবর্তনের সময় এসেছে।
তরুণদের ক্ষোভ
আফ্রিকার দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি আইভরি কোস্ট বিশ্বের বৃহত্তম কোকো উৎপাদক। খনিজ, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে বড় উন্নয়ন হলেও তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব, বৈষম্য ও প্রতিনিধিত্বের অভাব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
২২ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ল্যান্ড্রি কা বলেন, “সব সিদ্ধান্ত বয়স্কদের হাতে। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারাই ঠিক করে।”
সবচেয়ে পরিচিত বিরোধী প্রার্থী সাবেক ফার্স্ট লেডি সিমোন গবাগবো (৭৬)। অন্যদিকে, সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জ্যঁ-লুই বিলোঁর বয়সও ৬০।
ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের আফ্রিকা প্রোগ্রামের পরিচালক চুকুএমেকা এজে বলেন, “বেকারত্ব আর বৈষম্য তরুণদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি করছে।”
কঠোর নজরদারিতে নির্বাচন
আইভরি কোস্টের অতীত নির্বাচনে সহিংসতার নজির থাকলেও এবারের প্রচার তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। কেবল রাজধানী ইয়ামুসুক্রোতে শুক্রবার রাতে ছিটেফোঁটা বিক্ষোভের পর কারফিউ জারি করা হয়।
নির্বাচন ঘিরে ৪৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে সরকার। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, সরকার অহেতুকভাবে বিক্ষোভ দমন করেছে। এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক জনকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিক আচি বলেন, “আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাই, তবে শৃঙ্খলাও বজায় রাখতে হবে। স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।”