বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।”
শনিবার শিল্পকলা একাডেমিতে দৈনিক নয়া দিগন্তের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল এ সময় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কার সনদে স্বাক্ষরিত দলগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে চাই। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী রাখতে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।”
ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের বাকশাল শাসনের সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ হয়েছিল। সাংবাদিকরা বেকার হয়ে রাস্তায় হকারি করতে বাধ্য হন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রকামী শক্তির ওপর ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়নের ঘটনা জাতি ভুলতে পারেনি। ৬০ লাখ কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা, ২০ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নয়া দিগন্তের মালিক মীর কাসেম আলী, সালাউদ্দিন কাদেরসহ অনেক আলেম-মারও মৃত্যুদণ্ডের শিকার হয়েছেন মিথ্যা মামলায়।
ফখরুল বলেন, “এই দেশবাসী একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়—যে বাংলাদেশ কোনো বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণে নয়, জনগণের ইচ্ছায় পরিচালিত হবে।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “নয়া দিগন্ত আমাদের কাছে সংগ্রামের আরেক নাম। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এই পত্রিকার সাংবাদিক, সম্পাদক ও প্রকাশক অকথ্য নির্যাতনের শিকার হলেও তারা ধৈর্য, সতর্কতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে গেছেন।”