নারীস্বাস্থ্য ও কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে জাপানের ফেমটেক প্রতিষ্ঠানগুলো। নারীস্বাস্থ্য প্রযুক্তিনির্ভর এসব উদ্যোগ এখন গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে গর্ভধারণ, মাতৃত্ব ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এখনও বড় বাস্তবতা।
জাপান থেকে এশিয়ার নারীদের জন্য
২০২০ সালে জাপানে দুই ইউক্রেনীয় শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠা করেন ফেমটেক প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লোরা’। তাদের দুটি প্রধান প্রকল্প— ‘মুনলি’, নারীদের হরমোন ও জীবনধারা পর্যবেক্ষণের অ্যাপ, এবং ‘ওয়েলফ্লো’, এআই-নির্ভর টেলিমেডিসিন ও স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম।
টয়োটা গ্রুপের এক কারখানায় ওয়েলফ্লো চালু করার পর দেখা যায়, নারীদের মাসিককালীন অনুপস্থিতি অর্ধেকে নেমে আসে এবং উৎপাদন বাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি। ফলে টয়োটা তসুশো প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করে।
ফ্লোরার সহ–প্রতিষ্ঠাতা আনা ক্রেশচেনকো বলেন, “যখন স্বাস্থ্য আর উৎপাদনশীলতাকে একসঙ্গে দেখা হয়, তখন সবাই মনোযোগ দেয়।”
জাপানে সদর দপ্তর হলেও ফ্লোরা ইতোমধ্যে ভিয়েতনামে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করেছে এবং ভারতের সঙ্গে নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। আফ্রিকাতেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রেশচেনকো বলেন, “আমরা শুধু প্রযুক্তি বিক্রি করছি না, স্বাস্থ্য–সচেতনতা বাড়ানোই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। অনেক নারী জানেন না, তাদের জন্য সহায়ক উপায় কতটা সহজলভ্য হতে পারে।”
গর্ভবতী নারীদের জন্য ‘মেলোডি’
অন্যদিকে, গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে জাপানের আরেক ফেমটেক প্রতিষ্ঠান ‘মেলোডি ইন্টারন্যাশনাল’। তাদের উদ্ভাবন iCTG ফিটাল মনিটর—একটি পোর্টেবল যন্ত্র, যা মায়ের ও শিশুর স্বাস্থ্য রিয়েল–টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং তথ্য পাঠাতে পারে মোবাইল নেটওয়ার্কে।
ভুটান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ব্রাজিলসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এই যন্ত্র ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। থাইল্যান্ডে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ১,৫০০ নারীর মধ্যে ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা শনাক্ত করা হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা দিয়ে অন্তত ১০টি প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে “সেরা জনসেবা পুরস্কার” পেয়েছে।
সহ–প্রতিষ্ঠাতা ইউকো ওগাতা বলেন, “গর্ভবতী মা যখন প্রথমবার সন্তানের হৃদস্পন্দন শুনতে পান, সেই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এই অভিজ্ঞতাই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”
প্রযুক্তিতে আশার আলো
ফ্লোরা ও মেলোডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করছে—নারীস্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি একসঙ্গে এগোলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন দুটোই সম্ভব।
জাপানের এসব উদ্যোগ শুধু ব্যবসা নয়, বরং গ্লোবাল সাউথের নারীদের জীবনে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা। যেখানে প্রযুক্তি হচ্ছে হাতিয়ার, আর লক্ষ্য—নারীর সুস্থতা, নিরাপত্তা ও সমতা।