টেকভেঞ্চারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: সংকটে ৬ স্টার্টআপ

বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাত আবারও বড় ধরনের আস্থার সংকটে পড়েছে। দেশের ছয়টি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান—মার্কোপোলো, ফসল, যাত্রী, ১০ মিনিট স্কুল, অরোগা ও সোলশেয়ার—বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক চাপে রয়েছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা এসবিকে টেক ভেঞ্চারস লিমিটেড–এর ব্যর্থতা।

বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে স্টার্টআপগুলো অভিযোগ করেছে, সোনিয়া বশির কবিরের মালিকানাধীন এসবিকে টেক ভেঞ্চারস প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়তে ব্যর্থ হয়েছে এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যত “গায়েব” হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বিনিয়োগ না আসায় উদ্যোক্তারা এখন টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন।

প্রতিশ্রুতি ছিল ৭.১ মিলিয়ন ডলার

২০২৩ সালে এসবিকে টেক ভেঞ্চারস ঘোষণা দিয়েছিল, তারা বাংলাদেশের ছয়টি স্টার্টআপে ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই ঘোষণার পর উদ্যোক্তারা আশাবাদী হয়ে শেয়ার ছাড়েন এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালান। কিন্তু বাস্তবে এক টাকাও ছাড়েনি প্রতিষ্ঠানটি।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা প্রতিশ্রুত বিনিয়োগের আশায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর ধরে কোনো অর্থ ছাড় না হওয়ায় আমরা মারাত্মক সংকটে পড়েছি।”

ঋণখেলাপ-এর অভিযোগ

শুধু বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়, এসবিকে টেক ভেঞ্চারসের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী—

  • একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ১৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
  • ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের কাছে বকেয়া ১২ কোটি টাকা

এসব অভিযোগ আরও স্পষ্ট করেছে যে সংস্থাটির আর্থিক জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ।

স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে আস্থার সংকট

উদ্যোক্তারা বলছেন, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও ঋণখেলাপি দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বাংলাদেশে স্টার্টআপ খাত এখনো বিকাশমান। এখানে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সবচেয়ে বড় সম্পদ। কিন্তু এসবিকে টেক ভেঞ্চারসের ঘটনাটি পুরো খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একজন প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “আমাদের মতো নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য মূলধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

সামগ্রিক প্রভাব

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা ও স্টার্টআপ খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও দ্বিধায় পড়তে পারেন।

স্টার্টআপ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে সমাধান না হলে শুধু উদ্যোক্তারাই নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *