আসিফ আকবর: সঙ্গীত থেকে ক্রিকেট অঙ্গনে

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন পরিচালক হয়েছেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন গায়ক কীভাবে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিচালক পদে আসতে পারেন। তবে বাস্তবে ক্রিকেটের সঙ্গে আসিফের দীর্ঘদিনের যোগসূত্র রয়েছে।

নব্বই দশকের প্রজন্মের কাছে আসিফ আকবর মানেই একের পর এক জনপ্রিয় গান— “ও প্রিয়া তুমি কোথায়”, “বুকের জমানো ব্যথা” কিংবা “বেশ বেশ বেশ, সাবাশ বাংলাদেশ”। বিশেষ করে শেষের গানটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনানুষ্ঠানিক অ্যান্থেমে পরিণত হয়েছিল ২০০৭ বিশ্বকাপের সময়। প্রতিটি জয়গানে আসিফের এই সুরই বাজত সর্বত্র।

তবে শুধু গান নয়, ক্রিকেটেও আসিফের রয়েছে সরাসরি সম্পৃক্ততা। কুমিল্লার ছেলে আসিফ স্থানীয় জেলা দলের হয়ে খেলেছেন। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় আগ্রহ ছিল তার পরিবারে—মা ছিলেন অ্যাথলেট, বাবা খেলাধুলার সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। বাবার ইচ্ছায় নজরুল একাডেমিতে গান শিখতে হলেও, পাশের ঈদগাহ মাঠে লুকিয়ে ক্রিকেট খেলতেন আসিফ। পরবর্তীতে সঙ্গীতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তিনি অ্যামেচার লেভেলে ক্রিকেট খেলে গেছেন।

২০১৯ সালে যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, “ক্রিকেট সম্পর্কে আমার যথেষ্ট জ্ঞান আছে, আমি এখনো ক্রিকেট নিয়ে পড়াশোনা করি। ক্রিকেট আসলে সায়েন্স বা ম্যাথম্যাটিকসের মতো—এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হয়।”

আসিফের পারিবারিক জীবনেও রয়েছে ক্রিকেটের ছোঁয়া। তার স্ত্রী মিতুর পরিবার ক্রিকেটমুখী। এমনকি আসিফের ক্রিকেট প্র্যাকটিস থেকেই তাদের পরিচয় এবং পরবর্তীতে প্রণয় গড়ে ওঠে।

যদিও তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার ছিলেন না, তবে প্রফেশনাল লেভেলে ক্রিকেট খেলেছেন এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) বরিশাল বুলসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করেছেন। ফলে তার ক্রিকেটজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকের সংশয় থাকলেও, ক্রিকেটের সঙ্গে যোগসূত্র যে গভীর—তা স্পষ্ট।

রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আসিফের প্রতি অনেকের প্রত্যাশা ইতিবাচক। সঙ্গীতের যুবরাজ এবার ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্বে। ক্রিকেট নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারলে তিনি যেমন বাহবা পাবেন, তেমনি সমালোচনারও মুখোমুখি হবেন যদি ব্যর্থ হন। তবে আপাতত বিসিবি পরিচালক হিসেবে তার এই নতুন পথচলায় শুভকামনা জানাচ্ছেন ভক্তরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *